অনলাইনে চুম্বন বিনিময় ডিভাইস আনলো চীন!
দূরে থাকা দম্পতি বা প্রেমিক-প্রেমিকাদের মধ্যে ‘বাস্তব’ শারীরিক ঘণিষ্ঠতা, অর্থাৎ চুম্বনের ‘বাস্তব অনুভূতি’ নেওয়ার একটি ডিভাইস বানিয়েছে চীনের একটি প্রতিষ্ঠান। অবশ্য ‘কিসিঞ্জার’ নামে একই রকমের একটি ডিভাইস ২০১৬ সালে উদ্ভাবন করেছিল মালয়েশিয়ার ইমাজিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট। কিন্তু সেটিতে বাস্তব আকারের ঠোঁটের পরিবর্তে একটি স্পর্শ-সংবেদনশীল সিলিকন প্যাড ছিল।
আর ‘রিমোট কিস’ নামের চীনা ডিভাইসটিতে প্রেসার সেন্সর ও সিলিকন ঠোঁট নাড়াতে পারে এমন যন্ত্র রয়েছে। ফলে সেটি ব্যবহারকারী ঠোঁটের চাপ, নড়াচড়া ও তাপমাত্রা অনুযায়ী ‘বাস্তবিক চুম্বনের’ অনুভূতি তৈরি করতে পারে। চুম্বনের সঙ্গে এটি ব্যবহারকারীর শব্দও অনুকরণ করতে পারে।
চীনের এই ডিভাইসটির পেটেন্ট বা সত্ত্ব নিয়েছে চাংঝো ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট অব মেকাট্রনিক টেকনোলজি। ডিভাইসটির প্রধান উদ্ভাবক জিয়াং ঝংলি।
এরইমধ্যে অনলাইনে চুম্বন বিনিময় ডিভাইসটির বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে চীনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম উইবুতে। সেখানে বলা হয়েছে, ডিভাইসটির অ্যাপের ‘কিসিং স্কয়ার’ ফাংশনে অপরিচিতরাও চাইলে যুক্ত হবে পারবে। অপরিচিত কেউ একে-অপরকে পছন্দ করলে ওই ফাংশনে গিয়ে চুম্বনের অনুমতি চাইতে পারে।
এছাড়াও চীনের বৃহ্ত্তম অনলাইন কেনাকাটার সাইট তাওবাওয়ে ডিভাইসটি সম্পর্কে কয়েকডজন ব্যবহারকারী রিভিউ দিয়েছেন, যেখানে তারা এর ভালো-মন্দের বিভিন্ন কথা বলেছেন। ডিভাইসটির দাম ধরা হয়েছে ২৮৮ ইউয়ান (৪১ ডলার)।
এদিকে মার্কিন সংবাদ মাধ্যমে সিএনএন জানিয়েছে, সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে ডিভাইসটি নিয়ে কেউ কেউ রসিকতা করলেও, অনেকে একে ‘অশ্লীল’ বলেছেন। অপ্রাপ্তবয়স্করাও এটি কিনতে ও ব্যবহার করতে উৎসাহ পেতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অনেকে।
সিএনএন জানিয়েছে, কারো সঙ্গে চুম্বনে প্রথমে ব্যবহারকারীকে একটি মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করতে হবে এবং ডিভাইসটিকে মোবাইলের চার্জিং পোর্টের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। এর পর অপরপ্রান্তের সঙ্গীর সঙ্গে অ্যাপে যুক্ত হলে উভয়ে ভিডিও কল করতে পারবে এবং চুম্বন আদান-প্রদান করতে পারবে। অপরদি কে চীনা সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস-কে এর উদ্ভাবক জিয়াং ঝংলি জানিয়েছেন, তিনি আর তার বিশ্ববিদ্যালয়ের বান্ধবী ছিলেন অনেক দূরে। সেসময় তারা ফোনে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। তখনেই তার এমন একটি ডিভাইস তৈরির ভাবনা আসে। এরপর ২০১৯ সালে তিনি এই ডিভাইসটির জন্য পেটেন্টের আবেদন করেছিলেন, কিন্তু ২০২৩ সালে সেই পেটেন্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এখন অন্য কেউ ডিভাইসটি পরিবর্ধন এবং ডিজাইনকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি।





